| বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী প্রচারণায় আক্রমণ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে নাহিদ ইসলামের উদ্বেগ | ২০২৬ নির্বাচন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-01-2026 ইং
  • 2385560 বার পঠিত
নির্বাচনী প্রচারণায় আক্রমণ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে নাহিদ ইসলামের উদ্বেগ | ২০২৬ নির্বাচন
ছবির ক্যাপশন: নাহিদ ইসলাম

পেশিশক্তি দিয়ে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চলছে: বাড্ডায় নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর আক্রমণাত্মক প্রচারণায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। রাজধানীর বাড্ডায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরাজয়ের ভয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা করছে। আজ বুধবার বিকেলে নির্বাচনী প্রচার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন।

১. জনজোয়ার দেখে প্রতিদ্বন্দ্বীরা আতঙ্কিত

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সারা দেশে অভূতপূর্ব জনজোয়ার তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আশঙ্কা করছি, যে দলের পক্ষ থেকে আক্রমণ করা হচ্ছে, সামনে তারা এটি আরও বাড়াবে। কারণ জনগণের ওপর তাদের ভরসা নেই। তারা আমাদের জনজোয়ারকে ভয় পাচ্ছে এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”

২. নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণ ও প্রশাসনের নীরবতা

নির্বাচনী প্রচারণায় ১১ দলীয় জোটের নারী কর্মীদের ওপর দেশব্যাপী হামলার অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হচ্ছে, অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ অবস্থায় কোনোভাবেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ বলা চলে না। পেশিশক্তি দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”

৩. নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্লিপ্ততাকে দায়ী করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “আমরা নিয়মিত কমিশনে রিপোর্ট করছি, কিন্তু তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা সাফ জানিয়েছি, এভাবে চললে এটি একপক্ষীয় নির্বাচন হবে। এখনই যদি এই সন্ত্রাস না থামানো যায়, তবে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ আর থাকবে না।”

[Image: NCP Convener Nahid Islam addressing reporters in Badda area during 2026 election campaign]

৪. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ২০২৬-এর নির্বাচন

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকের আইনসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৯১-পরবর্তী গণতান্ত্রিক যাত্রা—প্রতিটি সময়েই উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি সহিংসতার কালো ছায়া ছিল। তবে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই ২০২৬ সালের নির্বাচন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাঁক বদল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার ভোটাররা কেবল প্রতিনিধি নির্বাচন করছেন না, বরং একটি ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ বা নিউ পলিটিক্যাল সেটেলমেন্ট প্রতিষ্ঠার লড়াই করছেন।

৫. ১১ দলীয় জোটের অবস্থান

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি দলের সমন্বয়ে গঠিত এই নির্বাচনী ঐক্য বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই জোটের অন্যতম সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম মনে করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের চূড়ান্ত রায়।


সূত্র: ১. কালের কণ্ঠ (অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণ), ২৮ জানুয়ারি ২০২৬। ২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) নির্বাচনী আপডেট। ৩. এনসিপি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ৪. প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency